ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং (দেশপ্রেম রিপোর্ট): আজ সকালে পুলিশের দীর্ঘদিনের দাবি ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’র বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি পুলিশিং-এর ওপর গুরুত্ব দিতে পুুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টার ওপর আমরা জোর দেব যাতে করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবা করা এবং মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা যায়।’ ‘কমিউনিটি পুলিশিং-এ আমরা জোর দিচ্ছি এবং আমি বলবো প্রায় সব ক্ষেত্রেই কমিউনিটি পুলিশিং-এ আরো জোর দেয়া উচিত।’‘কারণ হচ্ছে-কমিউনিটির লোকজন যদি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে তাহলে ঐ অঞ্চলে অপরাধের হার (ক্রাইম) এমনি কমে যাবে।’ তিনি এ সময় দেশে চলমান মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি পুলিশ ও থানাগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।
সরকার প্রধান বলেন, অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় জন প্রতি পুলিশের অনুপাত বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিংকে যদি জোরদার করতে পারি তাহলে আরো বেশি মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু বাধা আসে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন আসে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ ও আসে। আর এসব দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করি, যেখানে পুলিশ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
প্রধানমন্ত্রী উদাহারণ দেন, এই দুর্যোগ মাঝে মাঝে এমন আত্মঘাতী হয়, যা দেশের জন্য ক্ষতির সৃষ্টি করে। এছাড়া সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদতো রয়েছেই যেখানে আমাদের পুলিশ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছে এবং মানুষের জীবনের শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। তিনি এ সময় আন্দোলনের নামে ২০১৩-১৪ এবং ১৫ সালে বিএপি-জামায়াতের সন্ত্রাস এবং গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিসহ বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশকে আরো দক্ষভাবে গড়ে তোলার জন্য তাঁর সরকার এন্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং সাইবার ক্রাইম দমনে সাইবার পুলিশ সেন্টার গঠন করেছে এবং যেগুলো অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উন্নয়নসহ শিল্প পুলিশ, পিবিআই, টুরিষ্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং বিভিন্ন স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে।এদের বিরুদ্ধ অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাকে আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।
তিনি বলেন, একে আরো বাড়াতে হবে এই কারণে যে, মাদক এক একটা পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। এমনকি মাদকের জন্য ছেলে মাকে মেরে ফেলে, ভাই ভাইকে মেরে ফেলে, বাবাকে মেরে ফেলে। কাজেই এই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আরো বেশি করে মাদক বিরোধী অভিযান করতে হবে।
পুলিশের তাৎক্ষণিক সেবা প্রাপ্তির জন্য তাঁর সরকারের টোল ফ্রি ‘৯৯৯’ এ কল সার্ভিস চালুর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে পুলিশ খুব দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এইজন্য মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।’তিনি এ সময় পুলিশের জন্য ঝুঁকি ভাতা চালু, প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা, চাকরি ক্ষেত্রে পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুবিধা তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যাংকের বিষয় ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply